কাপ্তাইয়ে বন্য হাতির আক্রমণে জনমনে আতঙ্ক

লোকালয়ে এসেছে বন্যহাতি

অর্ণব মল্লিক,

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:-

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ী অঞ্চলে বেড়েছে বন্যহাতির তান্ডব। খাবারের সন্ধানে এসে বন্যহাতির পাল লোকালয়ে মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করছে। সেইসাথে পাহাড়ী অঞ্চলের বিভিন্ন বাগানের ফসল ক্ষতি করছে। সর্বশেষ সোমবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বন্যহাতির আক্রমনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কাপ্তাই পুলিশ সার্কেল অফিসের ব্যারাকে। এসময় ব্যারাকের রুমে পুলিশ সদস্য না থাকায় বন্যহাতির তান্ডব থেকে প্রাণে রক্ষা পেয়েছে।

কাপ্তাই পুলিশ সার্কেল অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যহাতির ৩টি বাচ্ছা হঠাৎ মধ্যরাতে এসে প্রবেশ করে। এসময় ১টি হাতি পুলিশ ব্যারাকের একজন সদস্যের রুমের দরজা, জানালা ভাঙচুর করে ভিতরে প্রবেশ করে। রুমের জিনিসপত্র সব এলোমেলো করে খাবারের সন্ধান চালায়। পরে কাপ্তাই নৌবাহিনীর ঘাঁটি হতে হাতি তাড়ানোর একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে হুইসেল বাজিয়ে হাতিগুলো তাড়ানোর ব্যবস্থা করে। তবে ওইসময় রুমে কোন পুলিশ সদস্য না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে এর আগে গত ১৬ই অক্টোবর বন্যহাতির পালের আক্রমনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কাপ্তাই সীতার ঘাট মন্দিরের কয়েকটি স্থাপনা। এসময় বন্যহাতির আক্রমন মন্দিরের কয়েকটি রুম ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সেইসাথে মন্দিরের আশেপাশে কয়েকটি বাগানেও তান্ডব চালায় বন্যহাতির পাল। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া কাপ্তাইয়ের ব্যঙছড়ি, ডংনালা, রাইখালী, চিৎমরম সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় হঠাৎ করে বন্যহাতির তান্ডব বৃদ্ধি পেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে বনে খাদ্য সংকটে বন্যহাতির পাল লোকালয়ে এসে হামলা করছে।

এবিষয়ে কাপ্তাই বনবিভাগের রেঞ্জ অফিসার এসএম মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, বন্যহাতির বিচরণক্ষেত্র সমূহতে মানুষ বিভিন্ন স্থাপনা করেছে। যার ফলে বন্যহাতির পাল লোকালয়ে চলে আসছে। তবে বন্যহাতি কিংবা বন্য প্রাণীর ওপর আক্রমন করা যাবেনা। বন্য প্রাণীর ওপর আক্রমন করা দন্ডনীয় অপরাধ। তবে বন্যহাতি দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হলে আবেদনের প্রেক্ষিতে বনবিভাগ থেকে সহযোগীতা করা হবে।